
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় অভিমান করে কেরির বড়ি (কীটনাশক) খেয়ে চাঁদনী আক্তার (১৮) নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে পৌর এলাকার ভাদুঘর টিঅ্যান্ডটি পাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত চাঁদনী আক্তার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের চুন্টা গ্রামের রিকশাচালক মো. ফারুক মিয়ার মেয়ে। তিনি চলতি বছর চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর চাঁদনী জানতে পারেন তিনি দুই বিষয়ে ফেল করেছেন। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। পরে দুপুরের দিকে নিজের ঘরে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
চাঁদনীর মামা আতিকুল ইসলাম বলেন, ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই চাঁদনী মন খারাপ করে বসে ছিল। কিছুক্ষণ পরই জানতে পারি, সে কীটনাশক খেয়ে ফেলেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরীক্ষায় ফেল করায় মানসিক আঘাত থেকে চাঁদনী আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বার্তা প্রেরক:
শাহনেওয়াজ শাহ
[10/16, 9:33 PM] +8801749221551: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন কলেজে পাস করেনি কেউ
শাহনেওয়াজ শাহ্, ব্রাহ্মণবাড়িয়া (সদর-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও নবীনগর উপজেলার তিনটি কলেজের একজন শিক্ষার্থীও এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি।
জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার নিদারাবাদ ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬ জন এবং চান্দপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে অংশ নেয় ১১ জন পরীক্ষার্থী। এবং নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী। তবে তিনটি প্রতিষ্ঠানেই পরীক্ষার্থীরা শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে।
এ নিয়ে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর হতাশা বিরাজ করছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষক সংকট, একাডেমিক দুর্বলতা, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবই এমন ফলাফলের জন্য দায়ী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা জুলফিকার হোসেন বলেন, ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক তদারকি বাড়ানো হবে। তাছাড়া কেন এমন ফলাফল আসল এই বিষয়ে শিক্ষকদের জবাবদিহিতায় আনা হবে।