জহির শাহ্, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি,
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ না করেই এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে তার কর্মী-সমর্থকরা ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১২টার দিকে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে ১২টার দিকে রুমিন ফারহানা শহীদ মিনারে পৌঁছালে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে পুষ্পস্তবক অর্পণ না করেই কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন রুমিন ফারহানা।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই তার কর্মী-সমর্থকরা সরাইলের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকায় ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা সড়কের ওপর আগুন জ্বালিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন, ফলে মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
ঘটনার বিষয়ে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী আমি প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাই। কিন্তু বিএনপির কিছু নেতাকর্মী পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করে।” তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। যদি স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দলীয় পদ ব্যবহার করে যারা এমন হিংস্র আচরণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা না নিলে শুধু দলের নয়, সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর বলেন, “শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।”
পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, “শহীদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও স্লোগানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব খেজুরগাছ প্রতীকে পান ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় রুমিন ফারহানা বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক পদ হারান।