ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে স্কুলছাত্র কাজী তাসনিম মামুন ওরফে সিজানের ওপর সংঘটিত ছুরিকাঘাতের ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি দেখা গেছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস আগে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ৫নং আসামি মোঃ সাজেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ; শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার পরিকল্পনা, জড়িত ব্যক্তিদের অবস্থান ও নেপথ্য বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ র্যাব বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকা থেকে মামলার ১নং ও প্রধান আসামি আব্দুর রাজ্জাক ওরফে জুবায়েরকে গ্রেপ্তার করে। গভীর রাতে গ্রেপ্তার হওয়ায় আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আদালতে তোলা সম্ভব হয়নি; পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী কার্যদিবসে আদালতে হাজির করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের হালদারপাড়া সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রী হোস্টেলের সামনে তিন রাস্তার মোড়ে সংঘটিত হামলায় অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিজান গুরুতরভাবে আহত হন এবং তার সঙ্গে থাকা শামীম মিয়াও আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিলে সিজানের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়; বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
এ ঘটনায় আহত সিজানের মা শ্রাবনী আক্তার বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন; এতে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০–১২ জনকে আসামি করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের পরিচয় উদঘাটনের চেষ্টা চলছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।